বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, 'বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। সরকারের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশে যে ব্যাপক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে তার ফলে সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা মানুষের কাছে কার্যকর আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এই ইতিবাচক ফল ধরে রাখতে হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই।' বুধবার ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে 'লিডারশিপ এন্ড ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন' শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আর্থিক সেবা খাতের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বাজারে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সকল অংশীজনের আবেগকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে যাতে আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত সকল অংশীজনের জন্যই ইতিবাচক কিছু করা যায়। বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুসারে আর্থিক সেবা সরবরাহ করতে হলে নিশ্চিতভাবেই আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে এ ধরনের পরিবর্তন করা এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে।'
তবে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারই যথেষ্ট হবে না বলে মনে করেন ড. আতিউর। তিনি একটি 'ডিজিটাল সংস্কৃতি' গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'এতে সেবাগ্রহীতারা ক্ষমতায়িত হবেন এবং আরও বেশি সংখ্যক মেধাবীরা এ খাতে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।'
এরপর ড. আতিউর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি চিন্তা-ভাবনার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তা বর্ণনা করেন।
প্রথম ফিন-বি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অন্তর্ভুক্তি মেলা ২০১৯-এর দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে ড. আতিউর রহমান এ নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর আগে, মঙ্গলবার দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ। দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, আর্থিক সেবা খাতের শীর্ষ ব্যক্তি, এবং গবেষকরা এ সম্মেলনে অংশ নেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি