কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের কেয়ারটেকার ও নাইটগার্ড শওকত আলী ৩৫ মাস ধরে কোনো বেতন, ভাতা বা সরকারি সহায়তা পাননি। বর্তমানে তিনি এবং তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভবনটি উদ্বোধনের পর গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ শওকত আলীকে সম্পূর্ণ মাষ্টার রোল ভিত্তিক ভবন রক্ষণাবেক্ষণ কেয়ারটেকার ও নাইটগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ভবনের গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ডকুমেন্টস, বই-পুস্তক ও আসবাবপত্র যত্নসহকারে রক্ষা করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে ভবন পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকেন, রাতেও পাহারায় থাকেন যেন মালামাল চুরি বা নষ্ট না হয়। তবে শওকত আলী এখনও তার বেতন-ভাতা পাননি।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানলেও উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধারা এখনও ভবনটি বুঝে নেননি। ভবনটি বুঝে নিলে নিচতলার দোকানগুলি ভাড়া দেওয়া হবে। সেই ভাড়ার অর্থ থেকে কেয়ারটেকারের বেতন ও ভাতা পরিশোধ করা হবে।
শওকত আলী বলেন, আমি দীন-দরিদ্র মানুষ। মাষ্টার রোল ভিত্তিক চাকুরী করেও জানি না কোন দপ্তরে গেলে আমার সমস্যার সমাধান হবে। গত ছয় মাস আগে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে ডাকযোগে বেতন-ভাতার আবেদন করেছি, যার অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার খুলনা, জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবদি কোনো সাড়া পাইনি। আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সুবিবেচনা ও দ্রুত সমাধান কামনা করছি।
বর্তমানে ভবনের কার্যক্রম তদারকির অভাবে প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভবনটি অতীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও বর্তমানে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব এবং তদারকির অভাবে এর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে।