পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে দুটি জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালানো হয়।
এতে বলা হয়, 'গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজগুলো পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচিত মাদক-পাচারের রুট ধরে যাতায়াত করছিল এবং মাদক-পাচারের কাজে নিয়োজিত ছিল।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অভিযানের সময় মোট পাঁচ জন পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে - প্রথম জাহাজে তিনজন এবং দ্বিতীয় জাহাজে দু'জন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর দরকারের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান রোধে 'যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার' অভিযোগ করে আসছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় সিআইএ গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন।
বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলায় 'মাদক কার্টেলের ওপর' হামলা শুরু করতে পারে।
গত আগস্ট মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছিল, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ শুরু করার জন্য একটি গোপন নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর ক্যারিবিয়ান সাগর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় বিমান ও ড্রোন হামলা শুরু করে, দাবি করা হয়- এগুলো মাদক পরিবহন করছিল।
তবে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তথাকথিত মাদক পাচারকারীদের জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে।
অক্টোবরের শেষের দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, তথাকথিত মাদকবাহী মানুষদের 'এমন পরিস্থিতিতে হত্যা করা হয়েছে, যার কোনো যুক্তি আন্তর্জাতিক আইনে পাওয়া যায় না।'
ভলকার তুর্ক বলেন, 'এই আক্রমণগুলো অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং এই নৌকাগুলোতে থাকা মানুষদের বিচারবহির্ভূত হত্যা রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে - তাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধমূলক কাজের অভিযোগই থাকুক না কেন।'