ঈশ্বরদীতে ঘন কুয়াশার কারণে চারদিন ধরে ঠিকঠাক সূর্যের দেখা মেলছে না। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সাময়িকভাবে সূর্য দেখা গেলেও তাপ ছড়ানোর আগে আবারও ঢাকা পড়ে যায় ঘন কুয়াশায়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার তীব্রতা বাড়ে। রাতভর টিপটিপ করে শিশিরের মতো কুয়াশা পড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে মানুষের চলাচল একেবারে কমে গেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
কদিন ধরে দিনের বেলায়ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ঠিকভাবে দেখা যায় না। দিনের আলোয় সড়ক ও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন বাইরে বের হচ্ছেন না। হাড় কাঁপানো শীতে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের দৈনন্দিন আয় অর্ধেকে কমেছে। খেটে খাওয়া মানুষজনও দুর্ভোগে পড়েছেন।
আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর আগে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৮ ডিগ্রি এবং বুধবার ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রেলগেট এলাকার শ্রমিক হাটে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা মনিরুজ্জামান বলেন, ভোর থেকেই কাজের আশায় এখানে বসে থাকতে হয়। কিন্তু এত কুয়াশা আর শীতের কারণে কেউ কাজ নিতে আসছে না। টানা দুই দিন ধরে বসে আছি, কোনো কাজ নেই।
শহরের নূর মহল্লার অটোরিকশা চালক সুদের সরকার বলেন, পেটের দায়ে প্রতিদিন সকাল সকাল বের হতে হয়। কয়েকদিন ধরে ইনকাম অর্ধেক কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ৬০০–৭০০ টাকা ইনকাম হতো, এখন সারাদিনে ৩০০–৪০০ টাকা আয় হয়।