পীরগঞ্জ উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় কনকনে শীতের তীব্রতায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কাজে বের হতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রিকশা ও ভ্যানশ্রমিকরাও যাত্রী সংকটে পড়েছেন, ফলে তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
শীতার্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আড়াই হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গত দুই দিন ধরে সূর্য মেঘের আড়ালে থাকায় এবং হিমেল বাতাস বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে গরিব ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের শীতকবলিত মানুষের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে আরও শীতবস্ত্র সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আবহাওয়া গম, ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য অনুকূল হলেও আলু ও বোরো ধানের বীজতলার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রায় ২৫০ হেক্টর বোরো বীজতলা এবং প্রায় ৫ হাজার ৩ হেক্টর জমির আলু ক্ষেত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, বৈরি আবহাওয়া মোকাবেলায় কৃষকদের বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার এবং আলু ক্ষেতে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।