বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েনের শঙ্কা, জয়শঙ্করের কাছে সাহায্যের আবেদন 

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলকে ঘিরে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কথা উঠে আসছে। চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ঘিরে এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই বেলুচ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কবার্তা এলো।

বার্তাসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বেলুচ নেতা মীর ইয়ার বেলুচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চীন তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। 

তার দাবি, চীন–পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত জোট বেলুচিস্তানসহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।

নতুন বছরের প্রথম দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে উদ্দেশ করে লেখা এক খোলা চিঠিতে মীর ইয়ার বেলুচ বলেন, বেলুচ জনগণের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” হিসেবে দেখছেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে বেলুচিস্তান নিপীড়নের শিকার হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

চিঠিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মীর ইয়ার আরও লেখেন, গত ৭৯ বছর ধরে বেলুচিস্তানের জনগণ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় দখলদারত্ব, রাষ্ট্র-পোষিত সন্ত্রাসবাদ এবং ভয়াবহ মানবাধিকার নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে এই দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার মূলে আঘাত হেনে আমাদের জাতির জন্য স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন ও পাকিস্তান দ্রুত এগোচ্ছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে। এটি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যা বেলুচিস্তান দিয়েই গেছে।

মীর ইয়ার বেলুচ বলেন, বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত জোটকে গভীরভাবে বিপজ্জনক হিসেবে দেখছে। আমরা সতর্ক করছি—পাকিস্তানের সহযোগিতায় চীন সিপিইসি প্রকল্পকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

তিনি দাবি করেন, যদি বেলুচ প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা না হয় এবং আগের মতোই উপেক্ষা করা হতে থাকে, তাহলে শিগগিরই বেলুচিস্তানে সরাসরি চীনা সেনা উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। 

চিঠিতে বলা হয়, যদি বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতাকামী বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার না করা হয় এবং দীর্ঘদিনের মতোই তাদের উপেক্ষা করা হয়, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না।

মীর ইয়ার বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্মতি ছাড়া বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হলে এর প্রভাব শুধু অঞ্চলটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি লেখেন, ৬০ মিলিয়ন বেলুচ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানের ভূখণ্ডে চীনা সেনা মোতায়েন হলে তা ভারত ও বেলুচিস্তান—উভয়ের ভবিষ্যতের জন্যই এক ভয়াবহ ও অকল্পনীয় হুমকি হয়ে উঠবে।

এএনআই জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মীর ইয়ার বেলুচের এসব দাবির বিষয়ে ভারত সরকার কিংবা চীন ও পাকিস্তান—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়