সুনামগঞ্জ থেকে অপহৃত দুই কয়লা ব্যবসায়ী বাগেরহাটে উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সুনামগঞ্জ থেকে অপহৃত দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে বাগেরহাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

বাগেরহাটে এসএ পরিবহনে মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকা নিতে এসে ওই তিন অপহরণকারী পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। গত ৪৮ ঘণ্টা বাগেরহাটের একাধিক পুলিশ দল অপহরণকারীদের ধরতে এই অভিযানে অংশ নেয়। পরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ি অপহ্নত দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।  

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এসময় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাতাব উদ্দীনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে আগুনে পুড়ল বস্তির অর্ধশতাধিক ঘর

গ্রেফতাররা হলেন, পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. তুহিন শিকদার (২২), জেলার সদর উপজেলার উত্তর পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে পারভেজ হাওলাদার (২৫) এবং কোমারখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে মো. আজগর আলী (৩৫)।

প্রেস ব্রিফিং এ বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩০ জুলাই সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলার টেকেরহাট মাটিকাটা এলাকার কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল আলম এবং মুসলিম মিয়ার সাথে পিরোজপুর জেলার জনৈক তুহিন ওরফে সৈকত শিকদারের মোবাইলফোনে পরিচয় হয়। এই সৈকত শিকদার নিজেকে ইটভাটা মালিক পরিচয় দিয়ে তাদের কাছ থেকে কয়লা কেনাবেচা করতে আগ্রহ দেখালে পরদিন তারা সৈকতের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। পিরোজপুর আসার পর সৈকতের ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে রাজু নামে এক যুবক ওই দুই ব্যবসায়িকে বাসস্ট্যান্ড থেকে লঞ্চঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে আসার পর তাদের ইট ভাটা দেখানোর কথা বলে ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে অস্ত্রের মুখে হাত পা বেঁধে ফেলে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা ব্যাংকের চারটি চেক ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে এই অপহরণকারীরা তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এই ব্যবসায়ীরা অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়া পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। অপহ্নত ব্যবসায়ীদের পরিবার ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকা এস এ পরিবহনের মাধ্যমে ওই অপহরণকারীদের দিতে বলে ফাঁদ পাতে এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি মনিটরিং করতে থাকে। মুক্তিপণের ওই টাকা অপহরণকারীরা এসএ পরিবহণে নিতে আসলে পুলিশ তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ি পুলিশ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এলাকা থেকে অপহ্নত ওই দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে।  

ইত্তেফাক/এমআরএম