ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকের ঘটনায় কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও হুমকির মুখে কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো প্রয়োজনে আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় সাবেক এই গেরিলা যোদ্ধা বলেন যে, তিনি আর কখনো অস্ত্র স্পর্শ না করার শপথ নিয়েছিলেন, কিন্তু মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনে তিনি আবারও তা হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করবেন না। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পেত্রোর গেরিলা দল এম-১৯ অস্ত্র সমর্পণ করেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আবারও রণমুখী অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন।
এই উত্তজনা মূলত শুরু হয় গত রোববার গুস্তাভো পেত্রোকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্পের একটি অবমাননাকর বক্তব্যের মাধ্যমে। ট্রাম্প পেত্রোকে ‘একজন অসুস্থ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন যে, তিনি কোকেন উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতে পছন্দ করেন।
কোনো প্রমাণ ছাড়াই মার্কিন প্রশাসন পেত্রোর পরিবারে ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং মাদকবিরোধী মিত্র দেশের তালিকা থেকে কলম্বিয়াকে বাদ দিয়েছে। এর আগে গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে অপহরণ করার পর থেকেই পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রণতরি মোতায়েন এবং ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা এই অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে পেত্রো সতর্ক করেছেন যে, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বা কৃষকদের ওপর বোমা ফেললে হাজার হাজার মানুষ আবারও গেরিলা বাহিনীতে যোগ দেবে। তিনি মনে করেন, একজন জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টকে আটক করার ফলে আমেরিকা ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়বে। পেত্রো দাবি করেন যে, তার মাদকবিরোধী নীতি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তার দেশের সেনাবাহিনীর ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাপ এবং কলম্বিয়ার ডানপন্থী বিরোধী দলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা পেত্রো সরকারকে এক কঠিন অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি