জমির বিরোধে নেত্রকোনায় দুই পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৩০

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একই গ্রামের দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ১২ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামের কাচারী মোড় এলাকায় বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে বেলা ১টার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। পরে প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের অন্তত জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- আজম মিয়া, সজল মিয়া, রামিম মিয়া, রফিকুল ইসলাম খান, এখলাস উদ্দিন খান, শাজাহান খান, মিরাস উদ্দিন ভূইয়া, জীবন ভূইয়া, সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, নজরুল ইসলাম ভূইয়া, রোকন ইসলাম ভূইয়া ও মামুন ভূইয়া। সংঘর্ষের তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বাট্টা গ্রামের আব্দুল আলী ভূইয়ার ছেলে জীবন ভূইয়া ও একই গ্রামের জাহের উদ্দিনের ছেলে চন্দন মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি গ্রাম্য সালিসে একাধিকবার মীমাংসা হলেও পরবর্তীতে ওই জমির পাশে দিয়ে যাওয়া সরকারি একটি হালটের রাস্তার অংশ নিয়ে নতুন করে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন চন্দন মিয়ার পক্ষের লোকজন জীবন ভূইয়ার জমির অংশ সংলগ্ন সরকারি ওই হালটের রাস্তার জায়গায় সুরকি ফেলতে গেলে জীবন ভূইয়ার পক্ষের মিরাস উদ্দিন ভূইয়ার সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরই জেরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি, ঢাল, বল্লম নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।

কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।