অসুস্থ মাকে শেল্টার হোমে রেখে কাজে আসার নির্দেশ, চাকরি ছাড়লেন কর্মকর্তা

ভারতের একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা তার গুরুতর অসুস্থ মায়ের সেবা করার জন্য ছুটি না পেয়ে এবং ম্যানেজারের অসংবেদনশীল আচরণের প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ওই কর্মকর্তার প্রকাশিত একটি পোস্টের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি জানিয়েছে। ভুল ওষুধ সেবনের ফলে ওই কর্মকর্তার মা সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়লে তিনি কয়েক দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। 

তবে তার ম্যানেজার ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরামর্শ দেন যে, মা অসুস্থ থাকলে তাকে কোনো মেডিকেল সেন্টার বা ‘আশ্রয়কেন্দ্রে’ রেখে ওই কর্মকর্তাকে অবশ্যই অফিসে উপস্থিত হতে হবে।

রেডিটে করা ওই পোস্টে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা তার চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান যে, দীর্ঘ দিন ওই ব্যাংকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরও এমন অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি। ম্যানেজারের পক্ষ থেকে এমন ‘নিষ্ঠুর’ প্রস্তাব আসার পর তার সামনে দুটি বিকল্প ছিল—হয় মুমূর্ষু মাকে একাকী ফেলে রেখে অফিস করা, না হয় চাকরি ছেড়ে মায়ের পাশে থাকা। economic times

তিনি দ্বিতীয় বিকল্পটিই বেছে নেন এবং এর পরপরই তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে করপোরেট সংস্কৃতির চরম ‘অসংবেদনশীলতা’ ও ‘অমানবিক শোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক সহানুভূতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। অনেক ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়েছেন যে, ম্যানেজারের এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য লিখিত আকারে চাইলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। 

কেউ কেউ এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তুলেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জরুরি অবস্থার প্রতি প্রতিষ্ঠানের যে দায়বদ্ধতা থাকার কথা, এই ঘটনাটি তার সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি