কলম্বিয়ায় মার্কিন সামরিক হামলার ‘বাস্তব হুমকি’ দেখছেন প্রেসিডেন্ট পেত্রো

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তার দেশে মার্কিন সামরিক হামলার এখন একটি ‘বাস্তব হুমকি’ তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোকে নিজেদের ‘সাম্রাজ্যের’ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার পর পেত্রো এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে শাসন করার পরিবর্তে এখন বিশ্ব থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE) এজেন্টদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘নাৎসি বাহিনী’র সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কেবল ল্যাটিন আমেরিকানদেরই রাস্তায় হেনস্তা করছে না, বরং তারা মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যার শিকার বানাচ্ছে। 

এই প্রসঙ্গে তিনি মিনিয়াপলিসে এক মার্কিন নারীর আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। পেত্রোর মতে, অপরাধ দমনের নামে এই ধরনের কার্যক্রম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গুস্তাভো পেত্রোর মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা হলেও আলোচনার সুর ছিল বেশ উত্তপ্ত। ট্রাম্প এই আলাপকে সম্মানজনক হিসেবে বর্ণনা করলেও পেত্রো জানান যে, আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি এবং ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক। 

ভেনেজুয়েলায় হামলা ও নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোও একটি ‘ভালো চিন্তা’ হতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে পেত্রো কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করছেন, যা পেত্রো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন যে তিনি গত ২০ বছর ধরে মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

যদি যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত হামলা চালায়, তবে কলম্বিয়া কীভাবে আত্মরক্ষা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পেত্রো তার দেশের ভূ-প্রাকৃতিক শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন যে, কলম্বিয়ার কাছে হয়তো অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই, কিন্তু তাদের সাহসী জনগণ, দুর্গম পাহাড় এবং গহীন জঙ্গল আছে। 

ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে কলম্বিয়ার মানুষ আগেও বড় বড় বাহিনীর বিরুদ্ধে পাহাড়-জঙ্গল ব্যবহার করে টিকে ছিল। সাবেক এই গেরিলা নেতা বর্তমানে কলম্বিয়ায় ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন এবং তার দাবি অনুযায়ী বর্তমানে দেশটিতে কোকা চাষ ও হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

সূত্র: বিবিসি