ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভিকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন প্রদানের বিষয়ে এখনই কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন পডকাস্টার হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রেজা পাহলভিকে একজন ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহলভিকে ইরানের পরবর্তী নেতা হিসেবে আগাম সমর্থন দেওয়া সঠিক হবে কি না, তা নিয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
ট্রাম্পের মতে, এখন সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কার উত্থান ঘটে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
ইরানের বর্তমান ইসলামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী রেজা পাহলভির ভূমিকা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক বার্তায় পাহলভি ইরানের সাধারণ জনগণকে আন্দোলন আরও সুশৃঙ্খল ও বেগবান করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা দমন-পীড়নের পথ ছেড়ে সাধারণ জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান। যদিও পাহলভি আন্দোলনের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছেন, তবে ট্রাম্প মনে করেন যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এখনই সমর্থন না দিয়ে পুরো বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে দেওয়া প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, রেজা পাহলভি ইরানের শেষ রাজা বা শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির সন্তান। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ঠিক আগের বছর সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। বিপ্লবের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তার আর দেশে ফেরা হয়নি এবং তখন থেকেই তিনি ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
১৯৮০ সালে কায়রোতে তার পিতার মৃত্যুর পর শাহপন্থিরা তাকে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ঘোষণা করে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নির্বাসনে থাকলেও বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তিনি রাজতন্ত্রের অনুসারী ও সরকারবিরোধীদের কাছে পুনরায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।
ট্রাম্পের এই সতর্ক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন চাইলেও কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয়।
ট্রাম্পের ‘সবাইকে সুযোগ দেওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরও কোনো বিকল্প শক্তির খোঁজ করছে অথবা অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তার বিষয়টি যাচাই করতে চাইছে। আপাতত রেজা পাহলভিকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করলেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তার ওপর বাজি ধরার ক্ষেত্রে বেশ হিসাবি পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।