চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহবুব আলম (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহবুব আলম হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপাড়া এলাকার হাফেজ আবদুল খালেক বাড়ির মৃত আবদুল নবীর ছেলে। তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট এবং অবিবাহিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহবুব আলম পেশায় একজন হাইচচালক ছিলেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পাশে ‘আলাউল হল’ নামে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে আনুমানিক ৩–৪ জন দুর্বৃত্ত কলাবাগান এলাকায় মাহবুবের দায়িত্বে থাকা ভবনের সামনে সড়কে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কেয়ার পার্ক নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের বাড়িতে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, নিহতের বুকের বাম পাশে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়, এতে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।
এদিকে মাহবুব আলম হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তার সহকর্মী ও চট্টগ্রাম জেলা কার-মাইক্রো-জীপ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম–রাঙ্গামাটি মহাসড়কের কলাতল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। খুনিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বেলা ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চট্টগ্রাম জেলা কার-মাইক্রো-জীপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, ‘মাহবুব সহজ-সরল ও সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিল। সে কখনও কারও সঙ্গে বিবাদে জড়ায়নি। এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল ব্যবসা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের আশ্বাসে আপাতত অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না হলে পুনরায় আন্দোলনে নামা হবে।’
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের দুটি টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’