পৃথক দাবিতে সাত কলেজ ও তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীরা রাস্তায়, একই স্থানে আজও অবরোধের ঘোষণা

দুই পৃথক দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধের কারণে অনেকটা থমকে যায় যান চলাচল। তীব্র যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। 

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে বেলা ১১টা থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড়, টেকনিক্যাল মোড়, তাঁতীবাজার মোড় ও মহাখালীর আমতলী সড়ক অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে তেজগাঁও কলেজের ছাত্ররা তাদের সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচারের দাবিতে একই সময় ইন্দিরা রোডের মূল রাস্তা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্পের মুখ বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্দিরা রোডের মুখে গাড়ি ডাইভারশন করে বিজয় সরণির দিকে পাঠানো শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ইন্দিরা রোডের র্যাম্প বন্ধ রাখতে বলা হয়।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে আজ ফের অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান। আর নতুন কর্মসূচি হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় তেজগাঁও থানা ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীরা।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পাশাপাশি একই সময়ে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচারের দাবিতে ফার্মগেট এলাকায় অবরোধ শুরু করে। ফলে পুরো রাজধানীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

ফের আন্দোলনে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা: এক দফা দাবিতে গতকাল রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী আমতলী মোড় ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শাহরিয়ার রহমান  বলেন, এই অবরোধের ঘোষণা মঙ্গলবারই দিয়েছিল ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন’। তাদের এক দফা দাবিটি হলো, ‘বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি।’

লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আমিনুল কবীর তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অবরোধের ফলে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

টেকনিক্যাল মোড় অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল সাংবাদিকদের জানান, বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে গাবতলী, টেকনিক্যাল মোড়, মিরপুর সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউ মার্কেট, শাহবাগ ও ধানমন্ডি সড়ক দিয়ে চলাচলরত সব ধরনের যানবাহন আটকে যায়।

মহাখালীর আমতলী সড়ক অবরোধ করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধ অবশ্য মিনিট ১৫ ছিল। পরে পুলিশের সহায়তায় সড়ক স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে ট্রাফিক গুলশান জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিয়াউর রহমান জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিটের মতো অবরোধ করেছিল। বর্তমানে সড়ক স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে বিকাল ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে এসে জড়ো হন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এদিকে গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।

সহপাঠী হত্যার বিচার দাবি শিক্ষার্থীদের: সহপাঠী সাকিবুল রানা হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সড়কেই যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিব হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। অবশ্য আজ তেজগাঁও থানা অবরোধের কর্মসূচি দিয়ে পরে তারা রাস্তা ছেড়ে চলে যান।