যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বলপ্রয়োগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেই মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে মানুষের ক্ষতি এড়ানো উচিত কি না—এই প্রশ্নে ট্রাম্পের সমর্থকরাই এখন বিভক্ত। এ অবস্থায় অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন এক বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের বড় অংশ এখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাজকে সমর্থন করলেও অভিবাসন দমননীতির কড়া প্রয়োগ নিয়ে তারা দ্বিধায় পড়ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন, গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে গিয়ে কেউ আহত হলেও কর্মকর্তাদের কঠোর হতে হবে। বিপরীতে, ৩৯ শতাংশের মতে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমলেও মানুষের ক্ষতি এড়ানোই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ছিল প্রায় একমত—৯৬ শতাংশই বলছেন, বলপ্রয়োগ কমিয়ে আঘাত এড়ানো দরকার।
জরিপটি এমন এক সময়ে করা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন অভিযানে সহিংসতার অভিযোগ বাড়ছে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে ৭ জানুয়ারি ৩৭ বছর বয়সী সমাজকর্মী রেনি গুড গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ির ভেতর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করছিলেন। প্রশাসনের দাবি, এটি ছিল আত্মরক্ষার ঘটনা। তবে স্থানীয় নেতা ও বিক্ষোভকারীদের মতে, গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় গুড ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মকর্তার দিক থেকে সরে গিয়েছিলেন, যা তার শান্তিপূর্ণ আচরণের প্রমাণ।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মিনিয়াপোলিসের একটি ফেডারেল ভবনের সামনে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং ব্যবহার করা হয়, কয়েকজনকে মাটিতে ফেলে গ্রেপ্তার করা হয়—যা রয়টার্সের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে।
পরদিন আরেক ঘটনায়, এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তারের সময় দুই পথচারী হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে এক কর্মকর্তা গুলি চালান এবং ওই ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানায় হোমল্যান্ডের নিরাপত্তা বিভাগ। এর পর রাতে আবারও বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে পাথর ও বরফ ছুড়ে মারলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ট্রাম্প মিনেসোটায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের হুমকি দেন এবং প্রয়োজনে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের কথাও বলেন।
অভিবাসন প্রশ্নটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহিষ্কার অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভিবাসন ইস্যুতে তার জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক জরিপে তা নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে—যা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন। একই সময়ে সামগ্রিক জনপ্রিয়তাও এক পয়েন্ট কমে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবু এই পতনের পরও অভিবাসন প্রশ্নে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন তার পূর্বসূরি জো বাইডেন-এর মেয়াদের অধিকাংশ সময়ের চেয়ে বেশি বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ এই জরিপে দেশজুড়ে ১ হাজার ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।