প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে অসহযোগিতা করার অভিযোগ তুলেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ২০০৬ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সিঙ্গুরের এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মোদি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে প্রবেশের সুযোগ করে দিতেই সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা দিচ্ছেন।
দ্য স্টেটসম্যানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে না দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তুলেছেন।
মোদি তার ভাষণে বলেন, বিজেপি ও তার সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো রাজ্যে কার্যকর করতে না দিয়ে আদতে মানুষেরই ক্ষতি করা হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘মৎস্যজীবী যোজনা’-র কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্যান্য রাজ্য মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা আটকে রেখেছে। মোদি জানান যে, তিনি এই বিষয়ে বারবার রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখলেও মুখ্যমন্ত্রী তা পড়েন না এবং তৃণমূল সরকার মৎস্যজীবীদের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক জেদকেই বড় করে দেখছে।
সিঙ্গুরের ওই সভা থেকে মোদি ঘোষণা করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিপি) নীতি চালু করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিভা রয়েছে, যাকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার মানুষের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
এছাড়া তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘মাফিয়া রাজ’ এবং সিন্ডিকেট রাজত্ব চলছে। মোদির মতে, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আনার জন্য স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য, যা বর্তমান সরকারের আমলে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
জনসভায় মোদি ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স প্রথা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার সাধারণ মানুষকে একটি দুর্নীতিমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ উপহার দেবে, যেখানে নারী নিরাপত্তাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। সিঙ্গুরের এই সভা থেকে মোদি মূলত বাংলার অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকে তার প্রধান নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান