উদ্বোধনের আগেই সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে গিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সরঞ্জাম। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মাণের পর থেকে হাসপাতালটি এখনও চালু হয়নি এবং সেখানে কোন জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালে কোন নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এ পর্যন্ত চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামালের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন জানান, হাসপাতাল চালু না হওয়ায় মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। মালামাল চুরি বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, ‘হাসপাতালে চুরির ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।’
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আকন্দ জানান, হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার মূলে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই হাসপাতাল। নির্মাণ হলেও প্রায় আড়াই বছরেও চালু হয়নি হাসপাতালটি। ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার চিকিৎসার সরঞ্জাম। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে ফাটল। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল এখনো ব্যবহারই করা হয়নি ফাটল দেখা দিবে কিভাবে। আর এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি।’
স্থানীয়রা আরও জানান, চালু না হওয়ায় হাসপাতালের নির্জনতা বেছে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। এই হাসপাতালটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে পরিনত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, জেলা প্রশাসনের সভায় চৌবাড়ী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অর্গানোগ্রাম সিভিল সার্জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করতে বলেছিলেন জেলা প্রশাসক। তারপর তিনি আবেদন পাঠিয়েছেন কিনা জানা নেই। আর ওই হাসপাতালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে তিন একর জায়গায় ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।হাসপাতালটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ১৯ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। জমি কেনা বাবদ ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং নির্মাণে ১৬ কোটি লক্ষ ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান বলেন, ‘১০ ও ২০ শয্যা হাসপাতাল যেগুলো করা হয়েছে বেশির ভাগই আসলে চালু করা হয়নি। এটা কি কারণে করা হয়েছে আমরাও জানি না। যেহেতু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক দিতে পারছি না সেক্ষেত্রে ১০ ও ২০ শয্যা হাসপাতালে এই মুহুর্তে চিকিৎসক দিতে পারবো বলে মনে হয় না। আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাজাই তারপর ১০ ও ২০ শয্যা হাসপাতালে যেতে পারবো।’