২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক জার্মানির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার প্রতিবাদে জার্মানিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি উঠেছে। 

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই একতরফা বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জার্মানির রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ এখন বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রধান হওয়ায় এই বয়কটের ডাক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউ-এর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি তার শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবায়ন করেন এবং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। 

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপেও এই দাবির প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, জার্মানির ৪৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বর্জন করা উচিত। তবে জার্মানি সরকার স্পষ্ট করেছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাজনীতিকদের নয়, বরং এটি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এবং ফিফার অভ্যন্তরীণ বিষয়।

অন্যদিকে, শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে থাকা আটটি দেশের তালিকায় ফ্রান্স থাকলেও তারা এখনই বয়কটের পথে হাঁটতে রাজি নয়। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন যে, বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈশ্বিক আসর বর্জন করার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের নেই। 

তিনি ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা নিয়ে এখনই আগাম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে জার্মানির মতো ফুটবল পাগল একটি দেশে প্রায় অর্ধেক নাগরিকের বয়কটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের সিংহভাগ ম্যাচ এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই আয়োজিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নীতি এবং বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব যদি খেলার মাঠে গড়ায়, তবে তা বিশ্বকাপের জৌলুস ও বৈশ্বিক সংহতিকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে। 

এখন পর্যন্ত ফিফা বা আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই বয়কটের হুমকির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।