ভারতে এক তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সিং রাজ। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নয়াদিল্লির পার্শ্ববর্তী ফরিদাবাদ এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ফরিদাবাদের অতিরিক্ত দায়রা জজ পুরুষোত্তম কুমার রাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে ২ লাখ ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদাবাদের ভুপানি গ্রামের এক নারী তার ২০ বছর বয়সী ভাতিজির নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। তদন্ত চলাকালে ৬ জানুয়ারি ওই তরুণীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ফরিদাবাদের জাসানা গ্রামের বাসিন্দা সিং রাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাজ ওই তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হত্যার পর মরদেহ নদীর তীরে ফেলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি, যার মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানায়, ভুপানি গ্রামের ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় ২০২২ সালের ৩০ মার্চ রাজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
ফরিদাবাদ পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত রাজকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।’
পুলিশ জানায়, রাজ ফরিদাবাদ সেক্টর–১৬-এর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় তিনি পুলিশের নজরে আসেন।
রাজের অপরাধের বিবরণ তুলে ধরে পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালে একজন চা বিক্রেতার মেয়েকে যৌন হয়রানির পর হত্যা করেন তিনি। ২০২০ সালের আগস্টে হাসপাতালে যৌন হয়রানির চেষ্টা ঠেকাতে গেলে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যা করেন। পরে ২০২১ সালের জুনে হাসপাতালের এক কিশোরী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও হত্যা করেন।
এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে নিজের চাচা ও চাচাতো ভাইকে হত্যার কথাও স্বীকার করেছেন সিং রাজ।