শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিলখুড়ী ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মোকাদ্দেস হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শিশু শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিতে বাধ্য করেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু ও সদস্য সচিব মাইদুল হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোকাদ্দেস হোসাইনকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পূর্ব ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইনের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে দলীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে।

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। পরে আমি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছি।

উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে শিলখুড়ী ইউনিয়নের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা ছাত্রদল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।