জামিনে বেরিয়ে নিহত রূপলালের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি, থানায় অভিযোগ

রংপুরের তারাগঞ্জে শ্বশুর ও জামাতা রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তারাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভারতী রানী জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট তার স্বামী রূপলাল দাস ও জামাতা প্রদীপ লালকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. রুবেল পাইকার (৩০) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে তাকে ও তার ছেলে জয়কে দেখে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। একইভাবে আরেক আসামি সোহাগও বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

ভারতী রানী বলেন, মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে ও আমার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ে আমার ছেলে স্বাভাবিকভাবে দোকানও করতে পারছে না। নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

নিহত রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, বাবাকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওতে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে স্পষ্ট দেখা যায়। সোহাগ প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। রুবেল পাইকার জামিনে এসে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। বাবা হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে রুবেল পাইকার দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন। মামলায় বহু আসামি রয়েছে। আমরা মামলা তুলে নিতে কেন যাব? এসব সাজানো অভিযোগ। আমি তাকে চিনি না, তার বাড়িতেও কখনো যাইনি। এদিকে আরেক আসামি সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপলাল দাস তার ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

একপর্যায়ে প্রদীপ লালের সঙ্গে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা দুজনকে কাছের একটি বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।
পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত প্রদীপ লালকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে তার মৃত্যু হয়।