গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় প্রাক্তন স্ত্রী রাশেদা খাতুনকে (৩৫) প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে আবদুর রহিম মিয়া ওরফে কাজল চন্দ্র সাহা (৪৫) নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। গুরুতর আহত রাশেদা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর কাঁচা বাজার সংলগ্ন কাসারি পট্টিতে এই ঘটনা ঘটে।
রাশেদা খাতুন উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে ও আবদুর রহিম মিয়া ওরফে কাজলের প্রাক্তন স্ত্রী। আবদুর রহিম মিয়া ওরফে কাজল চন্দ্র সাহা একই উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর সাহাপাড়ার গোপাল চন্দ্র সাহার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বামী পরিত্যক্তা রাশেদা সাদুল্লাপুর বাজারের দর্জির কাজ করেন। একই বাজারে কাজল ফলের ব্যবসা করেন। বাজারে দুইজনের দোকান পাশাপাশি। এর সুবাদে প্রায় বছর দুই আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে কাজল চন্দ্র সাহা সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রাশেদাকে বিয়ে করেন। কাজল চন্দ্র সাহা হয়ে যান আবদুর রহিম মিয়া।
সূত্রটি আরও জানায়, দাম্পত্য কলহের জেরে সম্প্রতি রাশেদা খাতুন তার স্বামী আবদুর রহিম মিয়া ওরফে কাজলকে ডিভোর্স দেন।পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক শালিস বৈঠক করে দ্বন্দ্ব মেটানো যায়নি। এই অবস্থায় শনিবার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর কাঁচা বাজার সংলগ্ন কাসারি পট্টিতে রাশেদাকে একা পেয়ে হটাৎ তার পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় কাজল। এ সময় আশপাশের দোকানদাররা রাশেদাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আরও পড়ুন: এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোস্তাফিজার রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পালানোর সময় আবদুর রহিম মিয়া ওরফে কাজল চন্দ্র সাহাকে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় পীরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে আটক করেছে। তবে এনিয়ে থানায় এখনও মামলা দায়ের হয় নাই।
ইত্তেফাক/অনি