জো ক স

সত্যজিত্ বিশ্বাস

কোন সে প্রাণী

মা ছেলেকে উদাহরণ দিয়ে দিয়ে গরুর রচনা পড়াচ্ছে।

মা :আচ্ছা বাবা বলো তো, কোন সে প্রাণী

—যে সবচেয়ে নিরীহ

—যার চোখ দুটো সবসময় ছলছল করে

—যে খুব কম ডাকাডাকি করে

—যে তোমাকে জুতা, চিরুনি, দুধ, মাখন, ছানা, মিষ্টি সব দেয়?

ছেলে :বাবা।

 

 

আনন্দের কারণ

স্যার :বল তো, কোরবানি ঈদ কেন এত আনন্দের?

ছাত্র :লম্বা ছুটি থাকে যে, সেই জন্য।

 

 

ছাগলের হাটে একদিন

 

ছাগল বিক্রেতা :ভাই লইয়া যান, মাত্র আশি হাজার টাকায় হিন্দিতে কথা বলা ছাগল লইয়া যান।

ক্রেতা :ওই মিয়া কী কও? একটা ছাগলের দাম এত হয়?

ছাগল বিক্রেতা :সাধারণ ছাগলের দাম এত হয় না সত্য, কিন্তু এ তো সাধারণ ছাগল না। দৈনিক তিন বেলা হিন্দি সিরিয়াল দেইখা হিন্দিতে কথা কইতে পারা জ্ঞানী ছাগল।   

ক্রেতা :কী কও এইসব? 

ছাগল বিক্রেতা :বিশ্বাস হইল না কথা? প্রমাণ দেখতে চান?

ক্রেতা :দেখাও প্রমাণ।

ছাগল বিক্রেতা (ছাগলের পেটে একটা গুতা দিয়ে) :বল তো, ব্ল্যাক বেঙ্গল কে?

ছাগল :ম্যা-এ-এ-এ

বিক্রেতা :আচ্ছা, খুব ভাবনা চিন্তা কইরা এইবার ক দেখি, তুই ব্ল্যাক বেঙ্গল হইলে ছাগল কে? আমি, তুই নাকি এই ভাইজান?

ছাগল :ম্যা, ম্যা...

 

 

কী দিবি রে?

লিপি :পরশু তো বান্ধবী দিবস। 

পপি :হুম, তো?

লিপি :আমি না তোর সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী?

পপি :অবশ্যই। 

লিপি :আমায় কিছু দিবি না?

পপি :অবশ্যই দেব।

লিপি :কী দিবি রে?

পপি :ফেসবুকে স্ট্যাটাস।   

খুশিতে, আনন্দে, ঠেলায়

ক্রেতা :লাস্ট দাম, গরু আশি হাজার টাকায় দিবা? 

বিক্রেতা :স্যার, না কেনেন ক্ষতি নাই। শুধু একবার গরুর চোখের দিকে তাকাইয়া দেখেন। দাম শুইন্যা কেমন ছলছল করতাছে।  

ক্রেতা :ছলছল করবে না? এত দাম উঠবে, কল্পনাও করতে পারে নাই তো। তাই খুশিতে, আনন্দে, আবেগে, ঠেলায় ছলছল করছে।  

 

‘উপকার করলে পুলিশে ধরে’ এটা কি ঠিক?

বিচারক :কী ব্যাপার, তোমাকে ধরে এনেছে কেন?

গরু চোর :সেটাই তো বুঝতে পারছি না, স্যার।

বিচারক :যখন পুলিশ ধরে আনে, তখন তুমি কী করছিলে?

গরু চোর :উপকার করছিলাম হুজুর। 

বিচারক :কী সব বলছ? উপকার করলে পুলিশ ধরবে কেন? 

গরু চোর :রাস্তায় একটা গরু হাঁটছিল। বাস-ট্রাকের নিচে পড়ে যাতে অ্যাক্সিডেন্ট না করে, সে কথা ভেবে যেই গরুর দড়ি টেনে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছিলাম, ঠিক তখনই পুলিশ ধরল। এখন আপনিই বলুন হুজুর, কারো উপকার করলে পুলিশে ধরে—এটা কি ঠিক?

 

গরুর হাটে একদিন

ক্রেতা :এই গরুর দাম কত?

বিক্রেতা :দেড় লাখ।

ক্রেতা :কী? এই গরুর দাম দেড় লাখ টাকা?  ওরে কেউ আমারে ধর, হিট স্ট্রোক করলাম মনে হয়।

বিক্রেতা :দাম কী বেশি মনে হইল ভাইজান?

ক্রেতা :বেশি মানে? এই গরুর দাম তো পঞ্চাশ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

বিক্রেতা :ওরে তোরা কে কোথায় আছস, গরুর কান চাইপ্যা ধর।

ক্রেতা :কেন, কেন?

বিক্রেতা :এই দাম শুনলে গরু তো লজ্জায় স্ট্রোক করব।

আমার মামা সব জানে

ভাগ্নে :আচ্ছা মামা, প্রতি কোরবানি ঈদে গরুর দাম বাড়ে কেন?

মামা :এটা তো মানুষ না, গরু। দাম তো বাড়বেই।

 

ঈদ সেলামি

বড় ছেলে :বাবা, এবার ঈদে ছোট ভাইকে যা দেবে আমাকে দেবে তার তিন গুণ।

বাবা :তা কেন? তোরা তিনভাই সমান সমান পাবি।

বড় ছেলে :কেন? আমি বড় না? বেশি পাওয়ার অধিকার অবশ্যই আমার আছে।

ছোট ছেলে :ঠিক আছে বাবা, এবার ঈদে আমাকে একটা চড় আর দুটো কানমলাই দাও।

 

তুমি কি মন বুঝতে পারো? 

প্রেমিকা :ওগো, তুমি কি আমার মন বুঝতে পারো? 

প্রেমিক :পারব না কেন, অবশ্যই পারি।

প্রেমিকা :কচু পারো। পারলে কি ঈদের সময়ে শপিংমলে এসে ফুচকার দোকানে হাত ধরে বসে থাকতে?   

 

চেনাচিনি

প্রথম পকেটমার :কীরে, একটু আগে ঈদ মোবারক বলে যাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলি, সে তো তোকে চিনিলই না।

দ্বিতীয় পকেটমার :ও নিয়ে ভাবিস না। পকেটে হাত দিয়ে যখন মানিব্যাগ খুঁজে পাবে না, তখন ঠিক চিনে নেবে।

 

খোলা জিনিসেই তো ময়লা জমে

প্রথম বন্ধু :আজ বন্ধু দিবসে একটা কথা বলি। খুঁজে দেখিস, আমার মতো এত খোলা মনের বন্ধু আর একজনও পাবি না। 

দ্বিতীয় বন্ধু :তাই তো বলি তোর মনে এত ময়লা কেন?

প্রথম বন্ধু :কী বললি?

দ্বিতীয় বন্ধু :না না, তোর তো দোষ না। খোলা জিনিসেই বেশি ময়লা জমে, তুই কি করবি বল?  

মানুষের বন্ধু থাকে কি করতে?

প্রথম বন্ধু :কীরে, তোকে এমন লাগছে কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :আর বলিস না, কয়েক রাত ধরে দু চোখের পাতা এক করতে পারছি না চিন্তায়। আগামীকাল হাজার পাঁচেক টাকা খুব দরকার।

প্রথম বন্ধু :মানুষের বন্ধু থাকে, কী করতে? আমাকে বলবি না?

দ্বিতীয় বন্ধু :সত্যি বলছিস?

প্রথম বন্ধু :মিথ্যা বলব কেন? আর আগে বললে, কখন নাক ডেকে ঘুমাতে পারতি।

দ্বিতীয় বন্ধু :তুই আমাকে বাঁচালি বন্ধু। তা টাকাটা কখন দিবি?

প্রথম বন্ধু :টাকা দেব কখন বললাম?   

দ্বিতীয় বন্ধু :তবে?

প্রথম বন্ধু :আমার কাছে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ আছে, সেটা দিতে চাইছিলাম।  

 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

এক মৃত্যু পথযাত্রী বৃদ্ধ তাঁর নাতিকে ডেকে বললেন, দাদুভাই, আমি তো দুই-একদিনের মধ্যেই মারা যাব। মারা যাওয়ার আগে তোমাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা উপদেশ দিয়ে যাই। তোমার বাবাকে দিয়েছিলাম, সে তো রাখল না। তুমি কিন্তু সেই ভুলটা করতে যেও না। নির্ঝঞ্ঝাট, নিশ্চিন্ত হয়ে বাঁচতে চাইলে কখনো বিয়ে করো না।

নাতি :তুমি নিশ্চিন্তে থাকো, তোমার উপদেশ কখনো ভুলব না। আমার মৃত্যুর সময় আমার নাতি, নাতনিকেও আমি এই উপদেশ দিয়ে যাব।

g  কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন