গরুর ঠিকাদারি

 শেখ ফিরোজ

 

কোরবানি ঈদ এসেই গেল, ভিড় লেগেছে হাটে,

টাকা কড়ির ছড়াছড়ি, ব্যস্ত সময় কাটে।

ইজ্জত আলী ব্যস্ত বেশি, ঘুম নেই তার মোটে,

এই সময়ে গরুর হাটে, আয় বেশি তার জোটে।

বউ বলেছে, দোহাই তোমার! দালালিটা ছাড়ো!

এই সমাজে মুখ থাকে না ছেলেমেয়ে কারো!

সেয়ানা এক মেয়ে ঘরে বিয়ে দিতে হবে,

বাবায় দালাল; জানলে লোকে বিয়ে হবে তবে?

ইজ্জত আলী বলল, শোনো—উড়ছে কত টাকা!

অনেক আছে মুখোশধারী, আমল তাদের ফাঁকা।

ঘুষের টাকায় কোরবানি দেয় লক্ষ টাকা দামি;

তাদের চেয়েও খারাপ কিসের—বলো দেখি আমি?  

কেনাবেচার সহযোগী হয়ে কিছু কামাই,

ঘুষের চেয়েও খারাপ তো নয়, বুঝবে না তা জামাই?

দেখার মতো কোরবানি দেয় ঘুষের টাকা দিয়ে 

ঠেকে থাকে এই সমাজে তাদের মেয়ের বিয়ে?

ইজ্জত আলী বলল এবার, বউকে মেরে ঝাড়ি,

জানুক লোকে! আমি করি-গরুর ঠিকাদারি।