মুহসিন ইরম
দোরগোড়ায় চলে এসেছে ঈদ। ঈদে আপনি বাধ্যতামূলকভাবে এমন কিছু অপ্রিয় ঘটনার মুখোমুখি হবেন, যা আপনাকে ব্যথাতুর করে তুলবে। তবে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা একটু ভিন্নভাবে করলেই হয়তো ঝামেলা চুকে যাবে, আপনার মনও ফুরফুরে হবে। আপনার হয়ে ভিন্ন সেসব ব্যাখ্যা করে দিচ্ছে ঠাট্টা
যেভাবে ভাবা হয়
ঈদ বোনাস নিয়ে বসের এত নাটক ভালো লাগে না। আজ দেব, কাল দেব করে করে না দেওয়ার পায়তারা। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী টাকার অংকটাও মিলছে না। কাজকর্মে আগ্রহই হারিয়ে ফেলছি।
যেভাবে ভাবা যায়
আহা, ঈদ বোনাস নিয়ে কী রোমাঞ্চকর ঘটনাই না ঘটছে। এমনিতেও সারাদিন অফিস করে কখনো অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশে বের হওয়া বা অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নেওয়া হয় না। বোনাস নিয়ে বসের নানাবিদ টালবাহানায় সে আক্ষেপ কিছুটা ঘুচতে বসেছে।
যেভাবে ভাবা হয়
ব্যাংকে কিছু টাকা জমাতেও পারি না। ঈদের আমেজ আসতেই শুরু হয়ে যায় বউয়ের শপিং, সব ব্যালেন্স শেষ করে তবেই ক্ষান্ত হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাসাতেই একটা জামা-শাড়ির শোরুম খুলে বসতে পারব।
যেভাবে ভাবা যায়
আমার কিছু বন্ধুর ওয়াইফ নাকি ব্যাংক-ব্যালেন্স শেষ করে বাড়ির দলিলে পর্যন্ত হাত দিয়ে ফেলে ঈদ শপিংয়ের জন্য। ভাগ্যিস, একটা ভালো বউ পেয়েছিলাম যে কি না ব্যাংকের ব্যালেন্স শেষ হলেই ক্ষান্ত দেয়? আহা, কী অমায়িক বউ আমার!
যেভাবে ভাবা হয়
ঈদের যাত্রা এ দেশে কখনো নির্বিঘ্ন আর স্বস্তির হলো না। পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পেয়ে ব্ল্যাকে টিকিট কেটে কোনো রকমে বাসে উঠেও নিস্তার নেই। যে ভয়াবহ জ্যাম বাড়িতে ঈদের আগে পৌঁছাতে পারব কি না চিন্তার বিষয়।
যেভাবে ভাবা যায়
বছরে মাত্র দুইবার নাড়ির টানে বাড়িতে রওয়ানা হই। এই দুইটা দিনে একটু ভোগান্তি আর কষ্ট থাকে বলেই বাড়ি ফিরলে একটা মধুর অনুভূতি কাজ করে। যেন রাজ্য জয় করে ফিরেছি। তাছাড়া, এই ভোগান্তি আর জ্যাম আছে বলেই তো বাড়ি থেকে বাবা-মা, মামা-চাচা বারবার ফোন করে খোঁজ নেয়। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেতে হাজার বছর জ্যামে বসে কাটিয়ে দেওয়া যায়।
যেভাবে ভাবা হয়
এমনিতেই ঈদ উপলক্ষে কম চাপ যায় না? রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে দুধওয়ালা, পত্রিকার হকার, দোকানদার, বাড়িওয়ালা সবাই বোনাস নিয়ে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় এনে ফেলেছে। ঈদের দিনটা একটু আয়েশ করে কাটাব তারও জো নেই। শ খানেক বাচ্চা কোত্থেকে এসে সালামির দাবিতে নাছোড়বান্দা হয়ে আছে। জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেল।
যেভাবে ভাবা যায়
ঈদের আবেদনই হচ্ছে আনন্দ ভাগাভাগি করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। সারা বছর ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ হয়ে ওঠে না, ঈদ এসে সে সুযোগ করে দেয়। ঈদ বকশিশ দিতে প্রয়োজন না থাকলেও রিকশায় চড়ব, এক হাতে পত্রিকা থাকলেও আরেক হাতে নতুন পত্রিকা নেব। বাচ্চাদের খুঁজে খুঁজে সালামি দেব, আনন্দে ওরা হৈ-হুল্লোড় করবে। একজীবনে মানুষ হিসেবে আর কী পাওয়ার আছে?