ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

জামালপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে জামালপুর-১ আসনে লড়াই করছেন বিএনপির হ্যাভিওয়েট প্রার্থী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ চার প্রার্থী। সব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। আর ভোটাররা বলছেন, এ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও লড়াই হবে ত্রিমুখী। নদী ভাঙন রোধ ও সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে যিনি কাজ করবেন তিনিই পাবেন জনগণের ভোট।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ধারাবাহিক স্রোতে স্নাত, সীমান্তঘেঁষা জনপদ দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা। গত ১২টি সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসনে ১৯৯৬ সালে তিন মাসের জন্য এবং ২০০১ সালে জয় পেয়েছিল বিএনপি। এবারের নির্বাচনি মাঠে রয়েছে বিএনপির সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী এবং সাবেক বিএনপি নেতা ও চার বারের উপজেলা চেয়ারম্যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদারসহ মোট পাঁচ জন।

দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুই জন।

পাঁচ জন প্রার্থী থাকলেও তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে এই আসনের নির্বাচনি মাঠ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন আসনের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি। হ্যাভিওয়েট বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছেন জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। অতীত অভিজ্ঞতাসহ জনপ্রিয় মুখ হওয়ায় তিন প্রার্থীর ভোটের সমীকরণ এখন কঠিন পর্যায়ে। তবুও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সবাই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ২৫ বছর যাবৎ জনগণের সঙ্গে আছি। সেই হিসেবে আশাবাদী। জনগণের রায় সর্বোচ্চ রায়।

জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী বলেন, 'সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য। কল্যাণমূলক দেশ গড়ার জন্য এবং সুন্দর একটি সামাজিক ব্যবস্থার জন্য ভোটাররা জামায়াত ইসলামীর প্রতি আস্থা রাখবে এবং বকশিগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জের মানুষ আমাকে দাঁড়িপাল্লায় মার্কায় ভোট দিয়ে সমর্থন করবে।'

বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যার হাতে দেশ সুরক্ষিত থাকবে। উন্নত হবে এলাকা। নদী ভাঙন রোধ হবে। বেকার সমস্যা সমাধান করবে। তাকেই ভোটররা নির্বাচিত করবে।

তবে ভোটাররা বলছেন, নদী ভাঙন রোধ, সীমান্তে চোরাচালানসহ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারা ব্যক্তিই পাবে জনগণের ভোট। দেওয়ানগঞ্জের ভোটার রুমেল বলেন, নদী ভাঙন রোধ করার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করবে, কাজ করবে, বকশিগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জের মানুষ তাকেই ভোট দিবে, তাকেই সমর্থন দিবে।

বকশীগঞ্জের ভোটার মতিন রহমান বলেন, 'সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় চোরাচালান, মাদকসহ অবৈধ জিনিস আসে। এগুলো যে রোধ করতে পারবে, আমরা তাকেই ভোট দিব।'

বকশীগঞ্জের ভোটার জয় দাংগো বলেন, 'আমি যাকে যোগ্য মনে করব তাকেই ভোট দিব। যে সুন্দরভাবে দেশ গড়তে পারবে। দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবে, সঠিক ভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারার। তাকেই ভোট দিব।'