ভুল তথ্য ও গুজব গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সম্পর্কে লিটারেসি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ফেক্ট চেকিং সেবা ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তারা। সোমবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে “ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা”- শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে তথ্য প্রচার আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় ঝুঁকি বয়ে আনছে। আমাদের এ বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলার জন্য আরো বেশি পেশাজীবি তৈরি করতে হবে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জোবায়ের বাবু বলেন, গণমাধ্যম এখন আগের মত নেই, অনেকেই এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা তাদেরকে আরো বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্ভরশীল হতে ধাবিত করছে। আমাদের ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও টেম্পারিং থেকে বাচঁতে হবে এবং এআই ভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও থেকে মুক্ত হতে ফ্যাক্ট চেকের সেবা বৃ্দ্িধ করতে যেখানে সরকারেরই মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, সাংবাদিকতা ও এক্টিভিজমের ক্ষেত্রে আমাদের আরো দৃষ্টি দিতে হবে যেখানে সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তিগুলো এক্টিভিজমে নিয়ে আসতে হবে। এর মধ্য দিয়ে তথ্যের সত্যতা জাচাই করার সুযোগ তৈরি করতে হবে, যেমন তথ্য ও ছবি যাচাই এখানে গুরুত্বপূর্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, আমাদের সত্যকে খোঁজার প্রতি অধিক মনোযোগ দিতে হবে যাতে ভুল ও অপতথ্য না ছড়াতে পারে। ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলায় আমাদের দেখার, এই লিটারেসি বৃদ্ধিকরার পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তার প্রতি তিনি জোর দেন।
এ প্রসঙ্গে ড. এস এম রেজওয়ান উল আলম, একাডেমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টিকে গভীরভাবে তুলেন এবং তিনি বলেন সরকার ও জনগনের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমাদের সকলের মিডিয়া লিটারেসির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে সরকার, জনগন ও সিভিল সোসাইটির সকলের যুক্ততার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী। অধ্যাপক সিদ্দিকী তার আলোচনায় বলেন আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের অভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং দ্রুতগতির সংবাদ পরিবেশে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন কেবল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে না- এগুলো আস্থাকে দুর্বল করছে, সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করছে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।