একটি সাদা সুতোয় টানানো আছে দৈনিক ইত্তেফাক-এ প্রকাশিত ‘আই সেইড ডোন্ট ফায়ার: একজন জোহা স্যার’ শিরোনামের একটি সম্পাদকীয়। এর পাশেই পরপর তিনটি সারিতে সুতোয় গাঁথা রয়েছে জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, আমার দেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আরও বেশ কয়েকটি সম্পাদকীয়। পাশের ডায়াসে চলছে পত্র-পত্রিকায় চিঠি ও কলাম লেখার খুঁটিনাটি নিয়ে নানা বিষয়ে আলোচনা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের রাবি শাখা ‘কাগজ-কলমে তারুণ্যের লেখালেখি’ শীর্ষক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ডিজিটাল বিভাগের সহসম্পাদক শাকিরুল আলম শাকিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শরীফুল ইসলাম ও রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—তরুণ কলাম লেখক ফোরামের রাবি শাখার সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী সজীব।
কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দৈনিক ইত্তেফাকের সহসম্পাদক শাকিরুল আলম শাকিল বলেন, পত্রিকায় লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই সবাইকে ধৈর্যশীল ও সৎ হতে হবে। লেখনী একটি জাতির দিকনির্দেশনা দেয়। তাই লেখার সঙ্গে নীতির সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। ৭১ ও ২৪ বারবার ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের লিখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে গঠনশৈলী ও মানের পাশাপাশি বিষয়বস্তুর গুরুত্ব রয়েছে। সমসাময়িক বিষয়গুলো পত্রিকা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পড়ুন, ভাবুন এবং বিশ্লেষণ করুন। পরিবেশ, মনস্তাত্ত্বিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা বলেন, লেখা মূলত চার ধরনের—একাডেমিক, সৃজনশীল, প্রবন্ধ ও কলাম এবং গবেষণাধর্মী। ভালো লেখার জন্য বিষয় নির্বাচন, পাঠক নির্ধারণ, ভাষার শুদ্ধতা ও যুক্তির ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। লেখার ভাষা হতে হবে প্রাঞ্জল ও সংক্ষিপ্ত। নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নিতে হবে এবং বারবার সম্পাদনা ও পরিমার্জনের মাধ্যমে লেখাকে পরিপক্ব করতে হবে।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, লেখালেখির মাধ্যমে আমাদের মানসিক চাপ দূর হয়। লেখালেখির মধ্য দিয়ে অবচেতন মনের বিষয়গুলো প্রকাশ পায়, যা মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। এতে আমরা মুক্তচিন্তার অধিকারী হতে পারি।
রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, পত্রিকায় লেখালেখির জন্য বানান ও শব্দ গঠনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। চারপাশে চলমান সমস্যা গুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
তরুণ কলাম লেখক ফোরামের রাবি শাখার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফোরামের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বিজয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন শাখার সদস্যরা।