জাতীয় সংসদ নির্বাচন

হবিগঞ্জ-১ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ- বাহুবল) আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বর্তমানে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থক নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন । দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর তৎপরতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট- বাজার, জনপদ এখন মুখর।

নবীগঞ্জে একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউপি এবং বাহুবল উপজেলার সাতটিসহ মোট ২০টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন । তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের পাঁচ জন । মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৭টি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপির মৃত্যুর কারণে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি শেষ সুজাতকে বাদ দিয়ে জোটের সঙ্গী গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়াকে জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। এবারের নির্বাচনেও শেখ সুজাত মিয়া বিএনপি দলীয় প্রত্যাশিত মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। গ্রামাঞ্চলে প্রবীণ নেতা হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে ড. রেজা কিবরিয়া তার প্রয়াত বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে এবং অর্থনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। বিএনপির রিজার্ভ ভোট ব্যাংক ও বাবার ইমেজ কাজে লাগিয়ে ড. রেজা কিবরিয়াও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে অবস্থানকারী প্রবাসী নেতা এলাকায় সুপরিচিত শেখ সুজাত মিয়াও বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ
করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।

এ আসনে অন্য তিন প্রার্থী হচ্ছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. বদরুর রেজা (চেয়ার) ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—বাংলাদেশ জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ী/কার) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ।