মাছের পোনায় ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ তাড়াশে সুফলভোগীদের বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে 'দেশের একমাত্র সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্প' সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সুফলভোগীদের কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের জন্য বরাদ্দ পোনা ও উপকরণ সঠিকভাবে না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন সুফলভোগী সদস্যরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর নিমগাছি এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় চত্তরে বিক্ষোভ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, ভেজাল মাছের পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য ও সার না দিয়েই মাস্টার রোলে সুফলভোগীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবুল কায়েস মামুন বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নিমগাছি এলাকায় সমাজভিত্তিক সৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলার সুফলভোগীদের ১১৫টি পুকুরে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পুকুরের জন্যবরাদ্দ ৯২ কেজি কার্প জাতীয় মাছের পোনা, ২৪ বস্তা খাবার, ৫০ কেজি টিএসপি সার, ৫০ কেজি ইউরিয়া সার ও একটি সাইনবোর্ড।

আসানবাড়ী গ্রামের পুরান পুকুরের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, বিনসাড়া পাঁচআনা পুকুরের সভাপতি জামাল উদ্দীন, কুমড়াগাড়ী পুকুরের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী, কাজীপুর দক্ষিণ পুকুরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শিবদাস পুকুরের সভাপতি মিজানুর রহমান ও মহেষ রৌহালী জোর পুকুরের সভাপতি আলামিন হোসেন বলেন, একটি পুকুরে রুই ৩০ শতাংশ, কাতলা ৩০শতাংশ, মৃগেল ২০শতাংশ ও ১২শতাংশ সিলভার কার্প, বিগহেট মাছের পোনা দেওয়ার কথা। অথচ, প্রায় ৭০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কম দামের সিলভার কার্প মাছের পোনা। কাতলার পোনা নেই। মাছের খাদ্য,সার, সাইনবোর্ড না দিয়েই মাস্টার রোলে জোরপূর্বক তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে-২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের ১৯টি জলাশয় সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। ৪০টি পুকুরে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের জন্য বরাদ্দ দেয় ৩৩ লাখ টাকা। ১২টি পুকুরে প্রদর্শনী বাবদ বরাদ্দ দেয় ১৮ লাখ টাকা। মাছ প্রক্রিয়াকরণ স্টেইনলেস স্টিলের বাক্সের জন্য বরাদ্দ দেয় ৪০ লাখ টাকা। এসবের অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মাছ প্রক্রিয়াকরণের স্টেইনলেস স্টিলের বাক্স কোনো পুকুরে দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবুল কায়েস মামুন সুফলভোগী সদস্যদের মধ্যে পোনা বিতরণের চেষ্টা করছেন। কয়েক জন নেওয়ার পর পোনায় ভেজাল ধরা পড়ে। তার পর থেকেবিক্ষোভ করতে থাকেন সুফলভোগী সদস্যরা।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, 'আমি নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে গিয়ে সুফলভোগী সদস্যদের অভিযোগের সত্যতা জানার চেষ্টা করব। নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক (অতি, দা.) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, 'সুফলভোগীদের মধ্যে পোনা বিতরণের সময় আমি অফিসে ছিলাম না। কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের জন্য বরাদ্দ পোনা ও উপকরণ সবই তারা সঠিকভাবে পাবেন।'

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'আমি কিছুই জানি না। আপনার নিউজের ডকুমেন্টগুলো আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। ব্যবস্থা নিচ্ছি।'