আইইউবিতে স্টেটসন আন্তর্জাতিক পরিবেশ মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার ২য় বাংলাদেশ কোয়ালিফাইং রাউন্ডের উদ্বোধন

স্টেটসন আন্তর্জাতিক পরিবেশ-বিষয়ক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৫–২৬-এর ২য় বাংলাদেশ কোয়ালিফাইং রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মিস্টার জাস্টিস ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিস্টার দিদার এ হোসেইন, চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিস, আইইউবি। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন হারথ বাংলাদেশ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিস্টার পরব নাসের সিদ্দিক। আইইউবি-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভুঁইয়া, ডীন, স্কুল অফ ল, আইইউবি এবং প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দীন খান, এডভাইজর, স্কুল অফ ল, আইইউবি। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আইইউবি-এর সম্মানিত ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম তামিম সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হারথ বাংলাদেশ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিস্টার পরব নাসের সিদ্দিক সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিচারক, অংশগ্রহণকারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাগত জানান। তিনি আইন শিক্ষার্থীদের যুক্তিতর্ক, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও আইনজীবীসুলভ দক্ষতা বিকাশে স্টেটসন আন্তর্জাতিক পরিবেশ-বিষয়ক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও সহায়তায় আইইউবি-এর ধারাবাহিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভুঁইয়া বাংলাদেশে মুটিং চর্চার বিকাশ বিষয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং বিশেষত বাংলাদেশের ওপর এর অসম ও মারাত্মক বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি আলোকপাত করেন। এরপর প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দীন খান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ আইন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিস্টার দিদার এ হোসেইন, চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিস, আইইউবি, আন্তর্জাতিক মানের মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজক, শিক্ষকবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৈশ্বিক পরিসরে এ ধরনের প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিস্টার জাস্টিস ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উষ্ণায়নসহ নানা কারণে সুন্দরবন আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই অপূরণীয় জাতীয় ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি সংবিধানবাদ ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন এবং উল্লেখ করেন যে নির্বিচারে বন উজাড় ও অটেকসই উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট অপরিবর্তনীয় ক্ষতি কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়, বরং এটি ন্যায়বিচারের সংকটও বটে। তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৮এ সংযোজনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি পরিবেশ বিষয়ক বিচার, আইন প্রয়োগ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে আইইউবি-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম তামিম বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ যে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান অবদানকারী নয়। তিনি সকল প্রতিযোগীর নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা আইন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শেখার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

এ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় এই কোয়ালিফাইং রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। প্রতিযোগিতাটি হারথ বাংলাদেশের আয়োজনে এবং আইইউবি-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সম্মানিত অতিথিদের হাতে কৃতজ্ঞতার স্মারক প্রদান করা হয় এবং বিচারক, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ-সচেতনতা ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের মূল্যবোধে দৃঢ় থেকে ভবিষ্যৎ আইনজীবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।