বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের তোলা যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিসিবির এই প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট জাহানারা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার নিযুক্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি’ এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
জাহানারা আলমের আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগকারী হিসেবে তদন্তের ফলাফল জন্য পূর্ণ অধিকার তার আছে। কিন্তু বিসিবি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। এমনকি প্রতিবেদনের কোনো কপিও তাকে দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি, অসদাচরণ, প্রতিশোধমূলক আচরণ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের গোপনীয়তা হতাশাজনক। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ায় জাহানারা আলম স্বস্তি বোধ করলেও এর স্বচ্ছতার অভাবে তিনি হতাশ।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিবৃতির প্রেক্ষিতে এই বিবৃতিটি প্রদান করা হয়।
জাহানারার আইনজীবীদের দাবি, বিসিবির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে স্পষ্টিকরণ চাওয়া হলে বোর্ড জানিয়েছে যে প্রতিবেদনটি বর্তমানে লিগ্যাল টিমের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে জাহানারাকে আদৌ এই প্রতিবেদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিসিবির বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির কাছে জাহানারা আলমের করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।
বিসিবির বলছে, অনুসন্ধান কমিটি জাহানারার অভিযোগের ভিত্তিতে হয়নি। বরং বিসিবির নিজস্ব উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে। জাহানারা পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এটার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাহানারা আলম স্পষ্ট করেছেন যে, কমিটি মূলত তার করা যৌন হয়রানি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্তের জন্যই গঠন করা হয়েছিল।