ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার–ভিডিপি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনী স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলায় সরাসরি ২৫ হাজার ৫৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭ হাজার ৭১৪ জন সদস্য ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
মহাপরিচালক তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রতিটি সদস্য একজন সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি এবং জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোনো সদস্যকে নিজ ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা কোনো বিশেষ পক্ষের নন; তারা নৈতিকতার আমানত রক্ষার কারিগর।’
নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল তদারকি চ্যানেল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং যেকোনো অপতৎপরতা দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালনকালে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্বসংক্রান্ত কোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার না করার জন্য সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মহাপরিচালক বলেন, সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবার STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে খাবারের টাকা ও ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে, সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা নির্ভর করে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, কঠোর শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে বাহিনীর এই প্রস্তুতি শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।