বগুড়ার দুর্গম চরাঞ্চলে মিললো মদের কারখানা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে একটি অবৈধ মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে ১ হাজার ৯০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের পর জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকেলে দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন— কাজলা ইউনিয়নের পাকরেদহ গ্রামের মৃত জয়নাল রবদাসের ছেলে রাজন রবদাস (২৪)। শনিবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকরেদহ গ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে দেশীয় মদ উৎপাদন ও বিক্রির তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্প ও সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে মাদক কারবারিদের একটি ঘরের মেঝে খুঁড়ে মদের মজুত উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে ১০টি ড্রামে ৯৫ লিটার করে মোট ৯৫০ লিটার চোলাই মদ, ৫টি বড় জারক্যানে ১০ লিটার করে ৫০ লিটার এবং ৩টি ছোট জারক্যানে ৩০ লিটার করে ৯০ লিটার মদ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার মদের পরিমাণ ১ হাজার ৯০ লিটার। এছাড়া মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

এ ঘটনায় রাজন রবদাসসহ চারজনকে আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন— পাকরেদহ গ্রামের মালতী রানী (৫৫), তার ছেলে সুশীল রবদাস (২৮) এবং একই গ্রামের মনোরাম রবদাস (৬০)।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি এএফএম আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার রাজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার সকালে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।