ঢাকা-৫ আসনে শেষ দিনের প্রচারণা

ভোট টানার চেষ্টায় ঘরে ঘরে গণসংযোগ ও পথসভা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে। গতকাল ছিল প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে ঢাকা-৫ আসনের (যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা) বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে ছিলেন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা। দিনভর চলেছে বাড়ি বাড়ি ভোট চাওয়া, ভোটার স্লিপ বিতরণ, উঠান বৈঠক, ছোট পথসভা, বাজারকেন্দ্রিক গণসংযোগ ও মাইকিং। শেষ দিনে এসে প্রচারণার ধরনও বদলে যায়। অধিকাংশ পক্ষই বড় শোডাউনের বদলে লক্ষ্যভিত্তিক এলাকা বেছে নিয়ে একাধিক ছোট দলে প্রচারণা চালায়। কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, ক্ষুদ্র দলভিত্তিক প্রচারণা এবং সরাসরি ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগই ছিল গতকালের প্রধান কৌশল।

ঢাকা-৫ আসনে শেষ দিনের প্রচারণায় কয়েক জন প্রার্থীই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। শেষ দিনের মাঠ পর্যবেক্ষণ এবং ভোটারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর প্রচারণা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান ও বিস্তৃত ছিল। বিশেষ করে ডেমরা এলাকায় ঘরে ঘরে যোগাযোগ ভোটার স্লিপ বিতরণ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠিত কর্মী উপস্থিতি তার প্রচারণাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ।

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কামাল হোসেন শেষ দিনে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও ছোট পথসভা করেন। তার প্রচারণার বার্তা ছিল নৈতিকতা, সুশাসন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধা। তবে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীর বিস্তৃত এলাকায় তার প্রচারণা উপস্থিতি তুলনামূলক কম চোখে পড়েছে বলে কয়েক জন ভোটার জানিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ ইব্রাহীমও শেষ দিনে কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রাখেন। তবে তার প্রচারণা একটি নির্দিষ্ট সমর্থক বলয়ের মধ্যেই বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা। জাতীয় পার্টি ও অন্য প্রার্থীরা শেষ দিনে ছোট আকারে প্রচারণা চালালেও তাদের কর্মসূচি ছিল সীমিত পরিসরে। ফলে শেষ দিনের হিসাব অনুযায়ী প্রচারণার বিস্তৃতি কর্মী সক্রিয়তা এবং বাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর সক্ষমতায় বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী কিছুটা এগিয়ে ছিলেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ভোট ভাগের সম্ভাবনা এবং নীরব ভোটারের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা-৫ একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানকার ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে জলাবদ্ধতা ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা ভাঙাচোরা সড়ক, যানজট, গ্যাস ও পানির সংকট, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং এলাকার নিরাপত্তা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ভাবনায় সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে। এই কারণে শেষ দিনে প্রার্থীরা সবাই বড় বক্তব্যের বদলে স্থানীয় সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক আশ্বাস দেওয়া এবং পরিচিত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারকে কাছে টানার কৌশল নিয়েছেন।

শেষ দিনের প্রচারণায় ডেমরা এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ নবী উল্লাহ নবীকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে দেখা গেছে। তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং সরাসরি কথা বলে ভোটারদের সমর্থন চান। ডেমরার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডগাইর বাজার মাজার রোড আইডিয়াল রোড সালাম বাগ ইসলাম বাগ বড়ভাঙ্গা বোর্ডমিল পূর্বপাড়া মেলার মাঠ রোডসহ একাধিক এলাকায় তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

গণসংযোগের সময় স্থানীয়রা জলাবদ্ধতা গ্যাস সংকট রাস্তাঘাটের অবস্থা এবং এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন কথা তুলে ধরেন। নবী উল্লাহ নবী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন এবং বাসযোগ্য পরিকল্পিত ও উন্নত ঢাকা-৫ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।