আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে যাত্রী হয়রানি ও বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শিবচরের ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন যানবাহন, নৌযান, ফেরি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিসি এসপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবহনসহ সকল ক্ষেত্রে কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী হয়রানি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার ঈদে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বিধি-নিষেধ, যাত্রী চাপ বাড়লে ফেরিতে পারাপার, সন্ধ্যার পর স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে ভাড়া ও অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোতে নিষেধাজ্ঞা, লঞ্চের কাটা সার্ভিস কাওড়াকান্দি ঘাটে স্থানান্তর, যাত্রীদের সেনিটারি নিশ্চিতকরণ, ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ঈদের আগে-পরে ঘাট প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করাসহ একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম প্রসাদ পাঠক, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. শামসুদ্দিন খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আবির হোসেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল নোমান, শিবচর থানার সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ, ডিআইও-ওয়ান নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ, পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) উত্তম কুমার শর্মা, হাইওয়ে ওসি নবী হোসেন খান, ইউপি চেয়ারম্যান মোহসেনউদ্দিন সোহেল বেপারি, পরিবহন সেক্টরের অন্যতম নেতা বাচ্চু খলিফা, ফারুক বেপারী, তুসু খন্দকার, খোকা মাদবর, ডাবলু বেপারী, লিটু বেপারী, হাবিব শেখসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন মালিক শ্রমিক নেতারা।
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. শামসুদ্দিন খান বলেন, কাঁঠালবাড়ি ঘাটটি হলো জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন এমপি সাহেবের বাবা মরহুম ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরীর নামে। অতএব এখানে কোন প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দয়া করে যাত্রীদের সুবিধার্থে নিজ নিজ কাউন্টারের ভাড়ার তালিকা লাগিয়ে রাখবেন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম প্রসাদ পাঠক সন্ধ্যার পরে স্পিডবোট চলাচল সম্পর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এবং যাত্রী হয়রানি ও বাড়তি ভাড়া না নেয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ রয়েছে ঈদ উল-আজাহা উপলক্ষে গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধসহ যাত্রী হয়রানি বন্ধে যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একাধিক দল ঈদের আগে ও পরে ঘাট এলাকায় থাকবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে ও পরে ঘাট এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা একাধিক মোবাইল ট্রিম কাজ করবে। যাত্রী সেবায় ঘাট এলাকায় মেডিকেল টিম থাকবে এবং যাত্রীদের চাপ বাড়ার আগেই প্রতিটি পরিবহনের কাউন্টারের সামনে নির্ধারিত ভাড়া তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই