ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনটি পরিণত হয়েছিল এক উৎসবের দিনে। সকাল থেকেই খুলনা মহানগর ও গ্রাম জুড়ে প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও গণসংযোগে সরব ছিল নির্বাচনি মাঠ। দলীয় পতাকা, রঙিন ফেস্টুন ও স্লোগানে প্রাণ ফিরে পায় সড়ক, পাড়া-মহল্লা। এদিকে সোমবার সকাল থেকে খুলনা মহানগরীসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনের কোনো জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রচারণার শেষ দিন গত সোমবার প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের মন জয়ের শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। কেউ মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে বের হয়েছেন, কেউবা হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট চেয়েছেন। তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল তুঙ্গে। ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা, প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রচার চালানো হয়েছে।
শেষ দিনে প্রচারণার ভাষায় ছিল উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রচারণাকে দেওয়া হয় উৎসবের রূপ। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে সক্রিয় ছিল।
ভোটারদের মধ্যেও ছিল কৌতূহল ও আগ্রহ। অনেকেই শেষ দিনে প্রার্থীদের বক্তব্য শুনে নিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ভোটের পরিবেশ, অংশগ্রহণের হার এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনটি রূপ নেয় এক বর্ণিল ও উৎসবমুখর দিনে।
প্রচারণার শেষ দিন গতকাল সোমবার বিকালে খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও নির্বাচনি প্রচার মিছিল করেছে। একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই মোড় ও পুর্ব বানিয়াখামার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এরপর তিনি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৈপাড়া ও পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। দুপুর সাড়ে ৩টায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি শেষ প্রচার মিছিল নগরীর রূপসা মোড়, পিটিআই মোড়, রয়েল চত্বর, সাতরাস্তা মোড়, ময়লাপোতা হয়ে শিববাড়ী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে বিকালে খুলনা-২ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সমর্থনে নগরীতে নারীদের মিছিল বের হয়।
সোমবার বিকালে খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল নগরীর বৈকালি মোড় থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর দৌলতপুর, রেলিগেট প্রদক্ষিণ করে ফুলবাড়ী গিটে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে রকিবুল ইসলাম বকুল বক্তৃতা করেন। একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও মিছিল করেন।
এছাড়া খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ডুমুরিয়া স্বাধীনতা চত্বরে জনসভা, খুলনা-৬ আসনে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর জনসভা কয়রা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে খুলনা-৫ আসনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শিরোমনি শহিদ মিনার চত্বরে জনসভা করেছেন। এছাড়াও তিনি সকাল থেকে খানজাহান আলী থানায় এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন। দলটির খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ, প্রচার মিছিলে ব্যস্ত সময় পার করেন।