মুন্সীগঞ্জে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার শিলই ইউনয়নের ৩ নম্বর পূর্বরাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- জুয়েল রানা শেখ (৪০),  জয় বেপারী (৩২), ইকাবাল খান (৩৮), সোহাগ বেপারী (৪৫) এবং জব্বার বেপারী (৫৫)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জুয়েল রানা শেখ ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মাহাবুব হাসান সোহাগের সঙ্গে আমরা ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর ১০/১২ জন সমর্থক কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিলাম। এসময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে আসছিল। প্রচারণা বন্ধের পরও মিছিলের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও বিএনপি নেতা জাকির জমাদার বলেন, সেখানের মিছিলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা ১০/১৫ জন কেন্দ্রে সামনে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয় এখানে কেন আসছি। এরপর কথা কাটাকাটি হলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষেই সংঘর্ষ হয়।

জেনারেল হাসপাতালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এস আই মো. রায়হান জানান, শিলই ইউনিয়নের কেন্দ্রের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা শুনে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখনও এই ব্যাপারে পুরোপুরি জানি না। জানার পরে  এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, বিকেলে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মিছিল থেকে ফুটবল সমর্থকদের উপর হামলা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। পরে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক  মো. কামরুজ্জামান রতনের সঙ্গে  বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মহিউদ্দিন আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই নিয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আরও একাধিকবার হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।