ইসিতে ৪ আসনে অনিয়মের অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি পটুয়াখালী-২ আসনের দুটি ইউনিয়নের ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাধ্য হয়েই আমরা ইসিতে এসেছি। ইসি সচিব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

দলের অভিযোগে বলা হয়েছে, নোয়াখালী-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের ওপর মহুরগঞ্জ এলাকায় হামলা হয়েছে। এতে প্রার্থীসহ তিনজন কর্মী গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোটের দিন সকাল থেকে মহুরগঞ্জ কেন্দ্র এলাকায় হাতপাখার ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাতপাখার এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।

ভোলা-১ আসনে দিঘলদী ইউনিয়নে দলের প্রধান নির্বাচন এজেন্ট ও এক কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা হামলাকারীদের পক্ষ নেন এবং হাতপাখার এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের মুক্ত করেন। একই আসনের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংকেরহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের কর্মীরা হাতপাখার নারী ভোটারদের জোরপূর্বক দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী-১ আসনে মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমগাছিয়া ও মাধবখালী ইউনিয়নের সব কেন্দ্র থেকে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর নরসিংদী-৫ আসনে রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের রায়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের বের করে প্রশাসনের সামনেই জাল ভোট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।