প্রতিদিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ২৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে রামেক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭২ জন রোগী। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ রোগী। শুধু তাই নয়, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দু’জন রোগী। রামেক উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস রবিবার এ তথ্য জানান।
এদিকে রাজশাহীতে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে হয়ে উঠেছে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট। এখনো সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট সরবরাহ করাই হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে রোগীদের ভরসাস্থল এখনো বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এ সুযোগে রোগীদের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। রামেক হাসপাতালে উপ-পরিচালক ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।
রামেক উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, এ হাসপাতালে এখন ৭২ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দুইজন আছেন আইসিইইতে। গত ১৫ জুলাই থেকে এখানে ১৪৮ রোগী ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হন। ইতোমধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ জন।
আরো পড়ুন: সাহো মুক্তির পর বিয়ে করতে চলেছেন প্রভাস!
ডা. সাইফুল বলেন, প্রতিদিন রোগী যেমন বাড়ছে, তেমনি সুস্থ হয়ে আবার বাড়িও ফিরছেন। তারা প্রায় সবাই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিক ফেরদৌস সিদ্দিকী রাজশাহীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের রাজশাহীস্থ নিজস্ব প্রতিবেদক। তবে গত শনিবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়েছে।
ডা. সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশ ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে বেড সংখ্যা ১৭টি। তিনটি বেড নিয়ে হাসপাতালের ১৭ নম্বর কেবিনটিকে ডেঙ্গু কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশারি টানিয়ে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। সেখানেই বেশিরভাগ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এনিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন হওয়া দরকার।
ইত্তেফাক/বিএএফ