বন্যার পানি কমলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি

বগুড়ার শেরপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। এখনও ভাসছে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

তবে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে দাবি করে বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, যমুনা নদীর পানি কমলেও বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি এখনও বিপদসীমার প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই শেরপুর অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি তেমন বোঝা যাচ্ছে না। গত শনিবার (৩আগস্ট) থেকে এই দুই নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। 

সরেজমিনে, পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ উপজেলার গাড়ীদহ, খামারকান্দি, খানপুর, সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ষাটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বানভাসি মানুষদের এখন একমাত্র ভরসা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা। বসত ভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার উঁচু স্থান ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি অর্ধ লাখ মানুষ ও তাদের গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়া জানান, তার ইউনিয়নে সিংহভাগ গ্রাম বন্যা কবলিত। বিশেষ করে সবজি চাষীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দিনমজুর মানুষ গুলো চরম দুরবস্থায়। তবে এলাকায় এখনও সরকারি কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। 

আরও পড়ুন: রামগড়ে এক রাতে ৩ বাড়িতে ডাকাতি, দায়ের কোপে আহত ৪

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সারমিন আক্তার জানান, প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী এই বন্যায় তিন হাজার ৫৮২ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা হাতে পেয়েছি। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ তার দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, বন্যা কবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অচিরেই শুরু করা হবে। 

ইত্তেফাক/অনি