ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর–১ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাত্র মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদে বসতে চলেছেন। তার কাছে অল্প ভোটে হারেন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতেই জয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল সবচেয়ে কম।
ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েক শ থেকে এক হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন পাঁচজন।
যে চারজন সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন— সিরাজগঞ্জ–৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম খান, কক্সবাজার–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। বিএনপির নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন সোয়া ৩ লাখের বেশি।
সিরাজগঞ্জ–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম খান ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম আকবর আলী পান ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা পৌনে ৫ লাখের বেশি।
কক্সবাজার–৪ আসনে ১৫৬৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি পান ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট। এই আসনে ভোটার পৌনে ৪ লাখের বেশি।
চট্টগ্রাম–১৪ আসনে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ১ হাজার ০২৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্যে থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওমর ফারুক। তিনি পান ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে ১ হাজার ০৬১ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির মো. আবদুল মান্নান। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। এই আসনে ভোটার প্রায় পৌনে ৫ লাখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে (প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর–৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও মিত্র দলগুলো ২১২টি আসনে, জামায়াত ও তার মিত্র দলগুলো ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে ১টি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।