ভিন্নচোখে ডেস্ক
শহরে বা গ্রামে ‘বিরাট গরু ছাগলের হাট’ শিরোনামে পোস্টার টাঙানো শুরু হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, রিকশা বা ভ্যানে হাটের প্রচার চলছে পাড়া-মহল্লায়। হাটগুলোও জমতে শুরু করেছে। তবে ভিড় ঠেলার মতো পরিস্থিতি দাঁড়ায়নি। তবে দুই একদিনের মধ্যেই গরু কেনার হিড়িক পড়ে যাবে। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী পছন্দের গরুটি শেষমেষ বাড়িতে আনতে পাড়লেই যেন স্বস্তি। তবে নিজের স্বস্তিটা যেন পরে অন্যদের অস্বস্তির কারণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা সবচেয়ে জরুরি।
ঈদের দিন থেকে ৩ দিন গরু কোরবানির নিয়ম রয়েছে। তাই শহর বা গ্রামে এই ৩ দিনই গরু কোরবানি হয়। যদিও তার বেশিরভাগই হয় ঈদের দিনেই। গরু কোরবানির পর এর বর্জ নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা কোরবানির ক্ষেত্রে। কারণ এ থেকে সৃষ্টি হয় জীবাণু, তৈরি হয় দুর্গন্ধ। যা পরবর্তীতে আশেপাশের মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণ হয়। তাই সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে এই সমস্যাটির সমাধান সহজেই করা সম্ভব। গ্রামের চেয়ে শহরে এই অসচেনতা দেখা যায় বেশি। ঈদের দিন কোরবানির পর কয়েকদিন রাস্তাগুলোয় লেগে থাকে রক্ত। এমনকি রাস্তার পাশে পড়ে থাকে গরুর বর্জ্য। মহল্লার সবাই একত্রিত হয়ে এই বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার নির্দেশনা তৈরি করা যেতে পারে।
গ্রামে পুকুর পাড়ে গরু কোরবানি করা হয়। এর ফলে রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য মিশে যায় পানির সঙ্গে। এছাড়াও পুকুরের পানিতে নাড়ি-ভুড়ি পরিষ্কারের কাজ করা হয়। একদিকে পুকুরের পানির জীবাণু যেমন নাড়ি-ভুড়িতে মিশে রোগ হতে পারে তেমনি পুকুরের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। তাই পরিষ্কার পানিতে ধোয়া উত্তম। আর ময়লা একটি গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠিন হলেও গ্রামে তা সহজ। একটি বড় গর্ত করে তাতে সবাই মিলে ময়লা ফেলে তার ওপর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিয়ে মাটিচাপা দিলে আর পরে দুর্গন্ধ বা রোগ ছাড়াতে পারবে না।
কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়
—কোরবানির পশুর রক্ত ফেলার জন্য গর্ত করুন। জবাই শেষে গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মাঝে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক পদার্থ ছিটিয়ে দিতে হবে। আশেপাশে কোনো বর্জ্য থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
—নাড়ি-ভুড়ির উচ্ছিষ্ট বের করে তা যত্রতত্র ফেলে দিলে পঁচে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং পরিবেশ দূষিত হয়ে বিভিন্ন রোগ ছড়াবে। তাই সেগুলো যথাযত স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
—যে স্থানটিতে পশু জবাই করবেন সেখানে গরম পানি ঢেলে পরিষ্কার করতে পারলে ভালো। পানি দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে। তাহলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না ও জীবাণুমুক্ত হবে।
—বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে যোগায়োগ করতে পারেন।
—বর্জ্য পরিষ্কারের পর হাত-পা ও সারা শরীর অ্যান্টিসেপ্টিক (স্যাভলন বা ডেটল) দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।