বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে মঞ্জুর করতে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এমএইচ তামিম বলেন, ওবায়দুল কাদেরের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শরিফ ওসমান হাদি। তার সেই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি হওয়া কথা রয়েছে।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ মোট আসামি সাত জন যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে রয়েছেন। তবে সবাই পলাতক।
বাকিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এদিকে, গতকাল এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক। তবে শেষ না হওয়ায় তার অবশিষ্ট জবানবন্দি আজ গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে দুজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।