সিরাজগঞ্জে মুড়ি ভাজার মৌসুম

রোজার মাস মানেই সিরাজগঞ্জের কালিয়া গ্রামে মুড়ি ভাজার কারিগরদের জন্য ব্যস্ততার চরম সময়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ঘরে-ঘরে, বাড়ি-ঘরে ভেজা মুড়ির খোঁজ চলে। এই সময়, ছোট্ট গ্রামে তৈরি মুড়ি শহরের বাজার থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী গ্রামে মানুষের মুখে পৌঁছে যায়।

অনিকা সাহা, একসময় ঘরে বসেই পরিবারের খাবার-দাবার যোগাড় করতেন, আজ কালিয়া গ্রামের মুড়ি ভাজার কারিগরদের অন্যতম। তিনি বলেন, সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে, তবে রোজার সময় ব্যস্ততা দ্বিগুণ। মানুষ এসেই তাদের চাল নিয়ে মুড়ি ভেজে নেয়। কেউ কেউ আগেভাগে জানিয়ে যায় যাতে আমরা তাদের জন্য মুড়ি প্রস্তুত রাখি।

শান্তা রানী সাহা আরও জানান, এই ব্যবসার মাধ্যমে আমাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, সংসারের দৈনন্দিন খরচ সবই মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক যুগ ধরে আমরা এই ব্যবসা করি। পুরনো আর্থিক সমস্যার অনেকটাই এভাবেই দূর হয়েছে।

মুড়ি ভাজার এই ছোট্ট কারখানায় প্রতিদিন নানা মানুষের দেখা মেলে। আবুল হোসেন জানিয়েছেন, আমি প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি চাল মুড়ি ভাজার জন্য নিয়ে আসি। নিজের জন্য এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য। প্রতি কেজি চালের জন্য মুজুরি হিসেবে ৩০ টাকা দিতে হয়।

সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর মহল্লার আব্দুস ছামাদ বলেন, বাজারের মুড়িতে নানা কেমিক্যাল মিশানো থাকে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। কালিয়া গ্রামের কারিগররা আমাদের সামনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মুড়ি ভেজে দিচ্ছে। তাই এখানে সবাই ভরসা করে আসে।

মুড়ি ভাজার এই প্রথা শুধু আর্থিক জীবিকা নয়, এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কারিগরদের সম্পর্ককেও দৃঢ় করে। সকাল থেকে রাত, রোজা-রোজার মধ্যে ব্যস্ততায় তারা কাজ করে চলেছেন, আর তার বিনিময়ে তাদের ঘরে এসেছে অর্থ, পরিবারের আনন্দ এবং গ্রামের সুস্বাদু মুড়ির গন্ধ।