বদলে যাচ্ছেন মমতা!

তারিক হাসান

 

রাজনৈতিক ময়দানে আরো লম্বা ইনিংস খেলতে নিজেকে বদলে নিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। খোল নলচে পালটে বদলে নিচ্ছেন নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকেও।

বদল আনা শুরু হয়েছে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর থেকে। এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস পায় ২২ আসন। প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসে বিজেপি দখল নেয় ১৮ আসনের। এরপরই পর্যালোচনা শুরু করেন নিজের এবং দলের। কোথায় ঘাটতি হচ্ছে জানতে দায়িত্ব দেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরকে। এই প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরেই ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভার ময়দানে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। বিশেষ করে বলতে গেলে নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজে হয়ে ওঠেন একটা ‘ব্র্যান্ড’। তার ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার বড়ো প্রমাণ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। বিরোধীদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে বিজেপি ভারতে দ্বিতীয় বার একক গরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই সাফল্যের গোটা কৃতিত্বই নরেন্দ্র মোদির।

মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব নিয়ে              সেই দিকেই আবারও মনযোগ দিয়েছিন প্রশান্ত              কিশোর। এবার মমতা ব্যানার্জিকে করে তুলছেন ‘ব্র্যান্ড মমতা’।

এর ফলে বদলে যাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। শুরু থেকেই তার ভাষণে জনতা আন্দোলিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে তার নামেই ভোট পায় তৃণমূল কংগ্রেস। জনসভায় লাখ লাখ লোক আসে। সেই জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে বক্তৃতা আরো ক্ষুরধার করে তুলছেন, ভোঁতা করে দিচ্ছেন বিরোধীদের মারপ্যাঁচ। কিছুদিন আগে তার দলের কেউ কাজের বিনিময়ে           কমিশন নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে বলেছিলেন মমতা। সেটাকে হাতিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন শুরু করে বিজেপি। কমিশন ফেরতের দাবিতে জনবিক্ষোভ হয়।

জনতার মন বুঝে এরপরই মাস্টার স্ট্রোক দেন মমতা। ক্যাম্পেন শুরু করেন ‘দিদিকে বলো’। এই কর্মসূচির বিষয় হলো জনতার কোনো অভিযোগ থাকলে ফোন বা ইমেল করে সরাসরি মমতাকে জানানো যাবে। তিনি অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে ব্যবস্থা নেবেন। প্রথম দিনেই অভাবনীয় সাড়া। এক লাখ লোক ফোন করেন মমতার দরবারে। দুদিন পরেই আরেক কর্মসূচি ‘আমার গর্ব মমতা’। মমতা ব্যানার্জি কেন জনতার গর্ব তা নিয়ে টুইটারে যে কেউ বলতে পারবেন। সেরা বলিয়ে পাবেন পুরস্কার। একই সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে সাড়া দিয়ে জানানো হয়েছে বেতন বাড়বে। এভাবে গত কয়েকদিনে বিরোধীদের আক্রমণ কার্যত ভোঁতা করে দিয়েছেন মমতা। কেউ কোনো আন্দোলন, বিক্ষোভ করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

অনেকেই বলছেন, এই বদল ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে। পরামর্শ যারই হোক। এই বদলে চমকিত রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আমজনতা। তারা মমতাকে বিশ্বাস করেন বলেই ভোট দেন। তাদের অভিযোগও থাকে অনেক। জনতার ভাবনাকে মমতা গুরুত্ব দিচ্ছেন দেখে তারা খুশি। টেনিসের পরিভাষায় বলা চলে, বদলে যাওয়ার প্রথম রাউন্ডের খেলায় অ্যাডভানটেজ মমতা।