সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক (১) অনুযায়ী করপোরেশনের নতুন বোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা গ্রহণ করবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এ বিষয়ে আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলাম। এই নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং নগরবাসী যেন যথাযথ সেবা পান, সেটা নিশ্চিত করাই হবে আমার কাজ।’
এ বিষয়ে কাইয়ুমের দুজন সমর্থক বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর মতো নিবেদিতপ্রাণ ও কর্মিবান্ধব ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খুব খুশি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কাইয়ুম চৌধুরী সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আহতও হন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। ছাত্রদল, যুবদল হয়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও সমাজসংগঠক। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের দমন-নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে তিনি কর্মিবান্ধব নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। এ ছাড়া সিলেটে বন্যা ও করোনাকালে ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেও তিনি আলোচিত হন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, যদিও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। পরে সিলেট বিভাগের ছয়টি আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।