খালিয়াজুরীর স্বপ্নের উড়াল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প অনুমোদন

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদর থেকে উচিতপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত উড়াল সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অঞ্জন দেব রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনুমোদনের কপি হাতে পেয়েছেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, উড়াল সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দৈনিক ইত্তেফাক। এরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুরী উপজেলা সদর কার্যত মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। জেলা শহরে যেতে বাসিন্দাদের প্রায় ২০ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার উচিতপুর পৌঁছাতে হয়। একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়, খরচ হয় প্রায় ২০০ টাকা এবং সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহান-বিন-নবাব বলেন, অতিরিক্ত খরচ ও দীর্ঘ সময়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধান ও মৎস্যসম্পদ বাজারজাত করতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে খালিয়াজুরীতে চাকরি করা ও বসবাস করা চ্যালেঞ্জিং। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরেফিন আযিম জানান, যোগাযোগ সমস্যার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এখানে আসতে অনাগ্রহী। জরুরি রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সচেতন মহলের মতে, প্রস্তাবিত উড়াল সেতু নির্মিত হলে কিশোরগঞ্জের নিকলী ও মিটামইন-এর মতো পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে খালিয়াজুরীতেও। কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতিতে গতি আসবে, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-বঞ্চিত এই জনপদের উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।