ফরিদপুরে বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর রশি টাঙাতে নিষেধ করায় জুয়েল মোল্যা (৩৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছোট ভাই সোহেল মোল্যাকে (২৪) পিটিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ী সড়কে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিযুক্ত সরফরাজ ও মনি বেগমকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আটক দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
নিহত জুয়েল মোল্যা ও সোহেল মোল্যা ওই এলাকার মৃত মনিরুদ্দিন আনসারির ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সরফরাজের বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে। তারা ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী সরফরাজ শেখের স্ত্রী মনি বেগম জুয়েল মোল্যাদের বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর জন্য রশি টাঙাতে যায়। এসময় জুয়েল মোল্যা দড়ি টাঙাতে নিষেধ করলে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েল ও সোহেলকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে অভিযুক্তরা। এসময় জুয়েল ও সোহেলের মা-ও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুত্বর আহত সোহেল ও জুয়েলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মের করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোতোয়ালী থানার উপ সহকারী পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনা জানার চেষ্টা করছিলাম। এসময় অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করি।