ইনফান্তিনো আরও ৩০ বছর ফিফা সভাপতি থাকার প্রত্যাশা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি হিসেবে এক দশক পূর্তি উদ্‌যাপন করলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই মাইলফলক উপলক্ষে তাকে অভিনন্দন জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প ফিফা প্রধানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ফিফার সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর ১০ বছর পূর্তি বিশ্ব ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাকে দারুণ নেতা উল্লেখ করে আগামী ১০, ২০ কিংবা ৩০ বছরও দায়িত্বে থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বড় ধরনের সংকটে ছিল ফিফা। সেপ ব্লাটারের সময়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর সংস্থাটির ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেতৃত্বে আসেন ইনফান্তিনো। আর্থিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক পুনরুদ্ধারের দাবি তার সমর্থকদের কাছে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হলেও, সমালোচকদের মতে এই স্থিতিশীলতার পেছনে রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফায় তার মেন্টর মিশেল প্লাতিনির নিষেধাজ্ঞা ফিফা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বদলে দেয় এবং সেখান থেকেই ইনফান্তিনোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়। তিনি সেই ভোটকে গণতন্ত্রের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখালেও অনেকের মতে এটি ছিল জরুরি পরিস্থিতির ফল, গভীর কাঠামোগত সংস্কারের নয়।

তার মেয়াদকালে ফিফাকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। ২০২২ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা, গাজা যুদ্ধ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার দাবি, রাশিয়া ও বেলারুশের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন— এসব ইস্যুতে সংস্থাটির অবস্থান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় আয়োজক দেশগুলোর রাজনৈতিক বাস্তবতাও বাড়তি নজর কাড়ছে।

তবে পরিবর্তনের নানা উদ্যোগও দেখা গেছে ইনফান্তিনোর সময়ে। নারীদের ফুটবলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পুরস্কার অর্থ বাড়ানো, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা চালু করা— এসব পদক্ষেপ তিনি নিয়মিত তুলে ধরেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ভিএআর, সেমি-অটোমেটেড অফসাইডসহ ভিডিও রিভিউ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খেলোয়াড় এজেন্টদের জন্য নতুন বিধিমালা ফুটবলের কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছে।

২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগ রয়েছে ইনফান্তিনোর সামনে।